রুকইয়াহর শাব্দিক ও পরিভাষিক অর্থ
‘রুকইয়াহ’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো ঝাড়ফুঁক করা বা মন্ত্র পড়া। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় রুকইয়াহ বলতে বোঝায়—কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম ও গুণাবলি এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে প্রমাণিত দোয়াগুলো পড়ে নিজের বা অন্যের ওপর ফুঁ দেওয়া। এটি শারীরিক ও আধ্যাত্মিক উভয় ধরনের অসুস্থতার জন্য একটি সুন্নাহসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা।
ইসলামে রুকইয়াহর গুরুত্ব
ইসলামী শরীয়তে রুকইয়াহ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে রুকইয়াহ করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও রুকইয়াহ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি মূলত আল্লাহর কালাম এবং দোয়ার মাধ্যমে তাঁরই কাছে সাহায্য চাওয়ার একটি মাধ্যম। রোগ ও অসুস্থতা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আসে এবং এর সুস্থতাও একমাত্র তিনিই দিতে পারেন। রুকইয়াহ হলো সেই সুস্থতা প্রার্থনার একটি শক্তিশালী উপায়।
কীভাবে রুকইয়াহ কাজ করে?
কুরআনের প্রতিটি আয়াত এবং রাসূল (সা.)-এর শেখানো প্রতিটি দোয়া বরকতময়। যখন একজন মুমিন পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে এগুলো তিলাওয়াত করে, তখন এর প্রভাবে শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি আসে। এটি জাদুটোনা, বদনজর বা জিনের প্রভাবের মতো অদৃশ্য সমস্যাগুলোর পাশাপাশি সাধারণ শারীরিক অসুস্থতায়ও আল্লাহর রহমতে আরোগ্য লাভের কারণ হয়।
চিকিৎসার সাথে সমন্বয়
রুকইয়াহ করার অর্থ এই নয় যে, সাধারণ চিকিৎসা বর্জন করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) অসুস্থ হলে ওষুধ গ্রহণ করেছেন এবং রুকইয়াহও করেছেন। তাই শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া এবং পাশাপাশি রুকইয়াহ করা—এটাই হলো সুন্নাহসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো পদ্ধতি যদি শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়, তবে তা গ্রহণে কোনো বাধা নেই।
